১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা ভারতের প্রয়োজনেই হয়েছে: জামায়াত
(রেডিও তেহরান): ভারতের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন
নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় জনগণ হতাশা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে
সম্পাদিত ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক কার্যত ভারতের প্রয়োজনেই
হয়েছে।
রোববার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ
সফরকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গত ১ জুন আমরা এক
বিবৃতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে বাংলাদেশ ও
ভারতের মাঝে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে বলে বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা
করছিল।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও দুই রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে ৪টিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সামুদ্রিক বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উত্তর ভারতে যাওয়ার ট্রানজিট সুবিধা পাবে উত্তর-পূর্ব ভারত। এ সবই কার্যত ভারতের প্রয়োজনেই সম্পাদিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সাথে সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে নিয়ে এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা নদী ও ফেনীর মুহুরী নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু এ দুটি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়ে কোন আলোচনা না হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ হতাশ হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টনের কোন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ মরুভূমি হতে চলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মকবুল আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের জন্য এক
গুরুতর সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের
হত্যা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে জনগণ আশা
করেছিল। কিন্তু তারও কার্যকর কোন পদক্ষেপ জনগণ দেখতে পায়নি। দু’দেশের মধ্যে
বিদ্যমান অসম বাণিজ্য, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, অপদখলীয় ভূমি
হস্তান্তর, অনিষ্পন্ন সীমানা নির্ধারণ এবং পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়,
ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত বিরোধের কোন সমাধান এ সফরের মাধ্যমে
জনগণ পায়নি।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন,
বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর নিকট এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের
নিকট এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের নামে একটি
প্রহসনের আয়োজন করে ক্ষমতা দখল করেছে। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ঐ নির্বাচনে ভোট
দেয়নি। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের বিষয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন
গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি
গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান
জানিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এদেশের জনগণ আশা করেছিল জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক দেশসমূহের আহ্বানের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে। কিন্তু দেশের জনগণের নিকট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কার্যকর কোন সহায়ক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর থেকে দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে।
বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অর্থবহ ভূমিকা ও দু’দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে মকবুল আহমাদ আশা প্রকাশ করেন।#
রেডিও তেহরান/এআর/৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন