উগ্র হিন্দুদের হামলায় আহত ট্রাক চালকের মৃত্যুতে উত্তপ্ত কাশ্মির
(রেডিও তেহরান): আবারো গরু
হত্যার গুজবকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল নিরীহ এক যুবকের। জম্মু-কাশ্মিরের
অনন্তনাগের বাসিন্দা ট্রাক চালক জাহিদ রসুল ভাটের ট্রাকে উগ্র
হিন্দুত্ববাদীরা পেট্রোল বোমা ছুঁড়লে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন।
রোববার সকালে দিল্লির এক হাসপাতালে
অগ্নিদগ্ধ ওই ট্রাক চালকের মৃত্যুতে ব্যাপক ক্ষোভ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি
হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় শ্রীনগরসহ কয়েকটি স্থানে
কারফিউ জারি করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জাহিদ নামে ওই ট্রাক
চালকের মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ (সোমবার) কাশ্মিরে বনধ পালন করা হচ্ছে। বনধে
জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ কাশ্মীরি নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, সাব্বির শাহসহ কয়েকজনকে গৃহবন্দি করেছে।
আজ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স
অ্যান্ড টেকনোলজি’র প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া
কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগের বাসিন্দা
ট্রাক ড্রাইভার জাহিদ এবং অন্য সঙ্গীরা কাশ্মিরের দিকে যাওয়ার সময় উধমপুরে
গত ৯ অক্টোবর একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা তার ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলা
চালায়। উধমপুর এলাকায় সেই সময় তিনটি গরু জবাই করা হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। এই
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর নামে একদল উত্তেজিত
মানুষের রোষের শিকার হন জাহিদ নামে ওই ট্রাক চালক।
যদিও ওই মৃত গরুদের ময়না তদন্ত রিপোর্টে
প্রকাশ, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলেই তাদের মৃত্যু হয়। সংবাদে প্রকাশ, ওই
এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য গরু
হত্যার গুজব ছড়ানো হয়।
পেট্রোল বোমায় গুরুতর আহত জাহিদকে
জম্মু-কাশ্মির হাসপাতাল থকে দিল্লির সফদর জং হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোববার
সকালে তার মৃত্যু হয়। এরপরেই অনন্তনাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা রাস্তায়
নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করে। কুলগামে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের
সংঘর্ষ বেঁধে যায়। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উদ্দেশ্যে পাথর
ছোঁড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানোর
পাশাপাশি বলপ্রয়োগ করতে হয়।
জাহিদের আত্মীয় মৌলভি মুহাম্মদ আশরাফ জানান, এই হামলার পিছনে হিন্দু সংগঠনের হাত রয়েছে।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর
আব্দুল্লাহ এই ঘটনায় বিজেপি এবং তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন। তিনি টুইট করে
বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাদরির ঘটনার জন্য অখিলেশ যাদব এবং উত্তর
প্রদেশ সরকারকে দায়ী করেছিলেন। জাহিদের মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করা হবে?’
তিনি বলেছেন, গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞার নামে
বিনা কারণে এই মৃত্যুর জন্য বিজেপি এবং তাদের সহযোগী দায়ী। ওমর বলেন,
‘গরুর গোশত প্রসঙ্গে বিক্ষোভের নামে উধমপুরে জাহিদের উপরে বোমা ছোঁড়ার ফলে
তার মৃত্যু হয়েছে। আল্লাহ্ তাকে জান্নাত দিন।’
মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ জাহিদের
মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতাকে দায়ী করে একে
দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বর্বর
হত্যার জন্য দায়ীদের যেকোনো মুল্যে সাজা দেয়া হবে বলে জানান।
কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গরুর
গোশত খাওয়া এবং তা বাসায় রাখার মিথ্যা গুজব রটিয়ে মুহাম্মদ আখলাক নামে এক
বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে উত্তর প্রদেশের মৈনপুরিতে মৃত গরুর
চামড়া ছাড়ানোকে কেন্দ্র করে গরু হত্যার গুজব রটিয়ে দু’জনকে বেদম প্রহার
করে জনতা।
কয়েকদিন আগে হিমাচল প্রদেশের একটি গ্রামে
‘গরু পাচারকারী সন্দেহে’ এক জনকে পিটিয়ে হত্যা করে উন্মত্ত জনতা। এসবের পরে
এবার পেট্রোল বোমা হামলায় কাশ্মিরের ট্রাক ড্রাইভার নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র
করে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।#

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন