উত্তর প্রদেশে ফের গরু জবাইয়ের গুজবে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ
(রেডিও তেহরান): ভারতের
উত্তর প্রদেশে আবারো গরু জবাইয়ের গুজবে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। একদল
উন্মত্ত জনতার ব্যাপক মারধরের শিকরার দুজন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশের মৈনপুরির করহল এলাকায় উত্তেজিত জনতা বেশ
কিছু দোকানপাটের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে
বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আহত হন ৭ পুলিশ কর্মী। এ ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেফতার
করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত অন্তত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, গরুর চামড়া ছাড়ানোর অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি এফআইআর
দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের আইজি ডি সি মিশ্র জানান,
‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই চারজন গরুটিকে জবাই করেনি।
স্বাভাবিক ভাবেই গরুটি মারা যায়। গরুর মালিক মৃত পশুটিকে ওই চারজনকে
দিয়েছিল। তারা ট্যানারির জন্য চামড়া ছাড়াচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট গরু মালিকের
ছেলেই গরু জবাইয়ের গুজব ছড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ বাবা এবং ছেলেকে
খোঁজ করছে।’
উত্তর প্রদেশের ক্ষমতাসীন সমাজবাদী
পার্টির প্রধান মুলায়ম সিং যাদবের নাতি তেজপ্রতাপ সিং যাদবের সংসদীয় এলাকায়
এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হামলাকারীদের দাবি, দেবী রোডস্থিত একটি
এলাকায় কয়েকজন যুবক গরু জবাই করছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই এক সম্প্রদায়ের
মানুষজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে দু’জনকে ব্যাপক মারধর করা শুরু করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ওই দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি জিপের
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেশ কিছু দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্য একটি
গাড়িতেও তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ উগ্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালালে
পাল্টা পাথর ছুঁড়ে আক্রমণ চালায় তারা। পরে পুলিশকে গুলিও চালাতে হয়।
জেলা প্রশাসক চন্দ্রপাল সিং জানান, এ পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
উত্তর প্রদেশের দাদরিতে সম্প্রতি গরুর
গোশত খাওয়া এবং তা বাসায় রাখার মিথ্যা গুজব রটিয়ে সম্প্রতি মুহাম্মদ আখলাক
নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। এ নিয়ে দেশে
জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যেই নতুন করে ফের গরু জবাইয়ের
রটনা করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায়
ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।#

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন