বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে হামলার আশংকা ব্রিটেনের
(রেডিও তেহরান): বাংলাদেশে
পশ্চিমা দেশের নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করে
দিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের
নিরাপত্তায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা জানিয়ে সরকার কূটনীতিকদের আশ্বস্ত
করার তিন দিনের মাথায় ব্রিটিশ পক্ষ থেকে আবারও এই সতর্কবার্তা জারি করা
হলো।
ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের
ওয়েবসাইটে শুক্রবার হালনাগাদ করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে
সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের ঝুঁকি আছে। পশ্চিমাদের উপর নতুন করে হামলা হতে
পারে।”
সম্প্রতি দুজন বিদেশিকে হত্যার ঘটনা
উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড লেভান্ট (আইএসআইএল)
এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ সফরকারীদের বিশেষ সতর্কতা
অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়, বিশেষ করে যেসব অনুষ্ঠানে
পশ্চিমা দেশের নাগরিকরা সমবেত হন, সেগুলোতে যোগদানের সময় সতর্কতা অবলম্বন
করতে হবে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
খান কামাল শুক্রবার রাতে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের
কাছে নেই। তারপরও কূটনৈতিক এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়
আছে। সারা দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা
হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। আশা করি এ ধরনের কোনো
ঘটনাই ঘটবে না।”
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ান ফরেন
মিনিস্ট্রি বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করে। ২৮
সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালির নাগরিক খুন হন। সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে
তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এরপর ব্রিটিশ হাইকমিশন তার দেশের নাগরিকদের
জন্য অ্যালার্ট জারি করে। এর ৫ দিন পর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরে
জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রিকশায় নিজের গড়ে
তোলা খামারের যাচ্ছিলেন। আইএসআইএল জঙ্গিরা এসব হামলার দায় স্বীকার করে।
তবে সরকার বলে আসছে, দুই খুনের সঙ্গে
আইএসআইএল’র সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও
বলেছেন, আইএস বা তেমন কোনো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই।
প্রধানমন্ত্রীর সন্দেহ, যারা বাংলাদেশকে
‘অস্থিতিশীল করতে চায়’ তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে
‘বিএনপি-জামায়াতের’ হাত থাকতে পারে।
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বিদেশি নাগরিক হত্যা নিয়ে সরকারের উচ্চ
পর্যায় থেকে যে ধরণের বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা খুবই দায়িত্বহীন। এ ধরণের
মন্তব্য তদন্তে বাধা সৃষ্টি করবে। প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারেন।”
রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে আমরা তীব্র
নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, দেশে আইন শৃঙ্খলা
পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বহীন উক্তি
কেবলমাত্র তদন্তের ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে না, বরং প্রকৃত আততায়ীকে চিহ্নিত
করতেও বাধার সম্মুখীন হতে হবে।”
বিবৃতিতে তিনি বিদেশি নাগরিক হত্যাকারী আততায়ীদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।#

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন