আলেমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন: হিন্দু মহাসভা
(রেডিও তেহরান): অখিল
ভারতীয় হিন্দু মহাসভা’র প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপাণি, হজরত মুহাম্মদ
(সা.)-এর বিরুদ্ধে কমলেশ তিওয়ারি আপত্তিকর বিবৃতির পর মুসলমানদের
প্রতিক্রিয়াসহ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরে এসবের বিরুদ্ধে
পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
কাছে চিঠি লিখে তার দাবির কথা তুলে ধরেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ নিয়ে যথাযথ
ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে চক্রপাণি
বলেছেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে কমলেশ তিওয়ারি আপত্তিকর বিবৃতি
দেয়ার পরে দেশে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে
সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জয়পুরে
আইএসআইএল-এর পতাকা দেখানো, স্লোগান দেয়া, মালদা এবং পূর্ণিয়ায় দুর্বৃত্ত
কর্তৃক আইন হাতে নিয়ে থানা এবং পুলিশ গাড়িতে আগুন দেয়া গণতান্ত্রিক দেশের
জন্য ভালো নিদর্শন নয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কমলেশ তিওয়ারির বিবৃতির
পরে হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে স্পষ্টীকরণ দেয়া হয়েছে। কমলেশ তিওয়ারি জাতীয়
নিরাপত্তা আইনে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য
অব্যাহত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে কোনো কংক্রিট পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না কেন?
তিনি বলেন, বিজনোরে কিছুদিন আগে মাওলানা
আনোয়ারুল হক বিক্ষোভ প্রকাশ করে কমলেশ তিওয়ারির মাথা কেটে আনলে ৫১ লাখ টাকা
পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। এর দু দিন পরে মুফতি নঈম আহমদ দেড় কোটি টাকা
পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টিকারী ওই আলেমদের
বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মুজাফফর নগরেও হাজারো মুসলিম পথে
নেমেছিলেন। এ নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না করা হলে
আন্দোলনে নামা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
(রোববার) নঈদুনিয়া মিডিয়া সূত্রে
প্রকাশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়টি আমলে
নিয়ে কংক্রিট পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত শুক্রবার উত্তর প্রদেশ রাজ্য বিজেপি
প্রেসিডেন্ট লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ী হুমকি দিয়ে বলেছেন, একতরফা পদক্ষেপ সহ্য
করা হবে না। কমলেশ তিওয়ারিকে কারাগারে পাঠানো হলেও আলেমদের জিজ্ঞাসাবাদ
পর্যন্ত করা হয়নি!
গত ডিসেম্বরেই অবশ্য মাওলানা আনোয়ারুল হক
কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা হলে ইটের জবাব পাথর
দিয়ে দেয়া হবে। তাদের ক্ষোভ কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং বিশ্বনবী
(সা.)-এর বিরুদ্ধে অমর্যাদাকর মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে। যদি কমলেশ তিওয়ারির
কঠোর সাজা না হয় তাহলে জেল ভরো আন্দোলন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে বিশ্বনবী হযরত
মুহাম্মদ (সা)-এর বিরুদ্ধে অবান্তর এবং তীব্র আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে
হিন্দু মহাসভা নেতা কমলেশ তিওয়ারির ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল
ভারতের উত্তর প্রদেশের ক্ষুব্ধ মুসলিমরা। পরে এই বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে
পশ্চিমবঙ্গের মালদা এবং বিহারের পুর্ণিয়াতে। মালদায় এ নিয়ে থানা ভাঙচুর এবং
পুলিশ গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে সেসময়। পুলিশ অবশ্য হিন্দু মহাসভার
নির্বাহী প্রেসিডেন্ট কমলেশ তিওয়ারিকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার
করেছে। আদালতের আদেশে ওই নেতা এখন কারাগারে রয়েছে।#
রেডিও তেহরান/এমএএইচ/এআর/৩১

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন