প্রাণ বাজি রেখেই খোরাক জোটায় ওঁরা -aajkaal.in
করে এ বাজারের সংসার চলে না৷ যদিও আগে পরিস্হিতি এমনটা ছিল না৷ এখন বাজি তৈরির ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে৷ আতশ বাজি থেকে শব্দবাজির চাহিদা বেশি৷ কিন্তু সেখানে কারিগরের হাত-পা বাধা৷ আতশবাজির ধরনও দিন দিন বদলে যাচ্ছে৷ নতুন নতুন আতস বাজি তৈরির মতো প্রশিক্ষণ তাঁদের নেই৷ ফলে বাজারের অন্য বস বাজির কাছে মার খাচ্ছে হাওড়ার এই প্রত্যন্ত গ্রামের বাজিকররা৷ বাজির কারিগর জাকির মাল রহমান মাল বাপি মালেদের সংসার চালাতে মরশুম ফুরলে অন্য কাজ করতে হয়৷ তাঁদের কথায়, দিন দিন বাড়ছে মশলাপাতির দাম৷ সেই তুলনায় বাড়ানো যাচ্ছে না বাজির দাম৷ তবুও কেমন লাভ? কারিগররা জানালেন, দু’হাজার রঙমশলা বিক্রি হবে ৪ হাজার টাকায়৷ মশলা, কাগজ, প্যাকেট সব কিছু খরচ ধরে লাভ মোটামুটি দেড় হাজার৷ মরশুমে একজন কারিগর ১৫-১৬ হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন৷ এই বাজি ব্যবসাই চিনিয়েছে মাল সম্প্রদায়কে৷ আগে এঁরা যাযাবরের মতো ঘুরে ঘুরে জড়ি-বুটি বিক্রি করতেন বেড়াতেন৷ এখনও স্হায়ী ঘর বেঁধে বসবাস শুরু করেছেন৷ স্হানীয় তৃণমূল নেতা আসুদুর রহমান জানালেন, বিপজ্জনক এই পেশা থেকে ধীরে ধীরে ওঁদের সরিয়ে নানার চেষ্টা চলছে৷ পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির তরফে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ শব্দবাজি যাতে ওরা না বানান৷ সচেতন করার চেষ্টা চলছে৷ বাজির পাড়ার কারিগররাও বলছেন স্বচ্ছলভাবে সংসার চালানোর মতো কোনও কাজ পেলে তাঁরা অনায়াসেই ছাড়তে পারেন এমন বিপজ্জনক পেশা৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন