দায় মেনে সৌদি আরবের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত: ফরহাদ মজহার - rangpur news

Breaking

Breaking News

rangpur news

This is news blog site.Here have important online newspaper.if you Concert:MD.Gulam azam sarkar. E-mail:gulamazam@gmail.com Mobil:01735632338

Windows

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

দায় মেনে সৌদি আরবের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত: ফরহাদ মজহার

দায় মেনে সৌদি আরবের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত: ফরহাদ মজহার


দায় মেনে সৌদি আরবের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত: ফরহাদ মজহার
(রেডিও তেহরান): বাংলাদেশের বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সমাজকর্মী ফরহাদ মজহার বলেন, মিনা দুর্ঘটনার দায় সৌদি আরব এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, মিনা দুর্ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত; তবে এর দায় সৌদি সরকারের এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

মিনায় সৌদি সরকারের অব্যবস্থাপনা, যুবরাজের গাড়ি বহর এবং অত্যন্ত গরম এসবই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। মিনা দুর্ঘটনায় এত হাজির মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখা দরকার।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন, খুবই ভালো হতো যদি সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার দায় নিজেরা স্বীকার করে, গোটা মুসলিম বিশ্বের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতেন।

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনায় ছিলেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব, ফরহাদ মজহার! সৌদি আরবের মিনায় যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল এবং হাজার হাজার হাজি হতাহত হলেন তার দায় কী এড়াতে পারে সৌদি সরকার? এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আপনি কী বলবেন এ প্রশ্নে?


ফরহাদ মজহার: মিনা দুর্ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত। মিনায় যারা গেছেন তারা পবিত্র হজের বিধান পালন করার জন্যই গেছেন। ফলে মিনার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ধর্ম-নির্বিশেষে সবাইকে মর্মাহত করেছে।
আর যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন সেই দুর্ঘটনার জন্য বিশেষ কাউকে দায়ী করাটা ঠিক নয়। মিনা দুর্ঘটনা নিয়ে যদি সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনার কথা  যদি বলি তাহলে এর দায় থেকে ওই সরকারের এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সত্যিকারার্থে মিনা দুর্ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারে না।

তবে আমাদেরকে প্রথমে খতিয়ে দেখতে হবে এটা আদৌ দুর্ঘটনা কিনা। আর সেখানে অব্যবস্থাপনা এবং সৌদি যুবরাজের সেখানে গাড়ি বহর নিয়ে যাওয়া এগুলো হয়তো সবই সত্য। একইসাথে আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হচ্ছে এ সময় মিনায় গরমের পরিমাণ অনেক বেশি। সম্ভবত সেখানে তাপমাত্র ৫০ ডিগ্রির ওপরে ছিল। আর অসম্ভব গরমের কারণে সেখানে ক্রমাগত পানি দেয়া হচ্ছিল এবং সে পানি দেয়ার কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে শুধু অব্যবস্থাপনাই একমাত্র দায়ী নয়।

বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে যাচ্ছে, তারা চলমান। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেয়ার বিষয়টি খুবই জটিল এবং কঠিন একটা বিষয়। ফলে পুরো বিষয়টির দিকে তাকালে আমরা দেখব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণ অনভিজ্ঞতা রয়েছে। আর দায়ের কথা এলে সেই ব্যবস্থাপনাগত ক্রটিকে কোনোভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। ফলে আমরা আশা করব এ ব্যাপারে সৌদি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যেন এ ব্যাপারে অতি দ্রুত নজর দেয়।

আর মিনার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে নিয়ে আমরা যদি দোষারোপের বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেই তাহলে প্রতিবছর হজের সময় ব্যবস্থাপনা সংকটের যে বিষয়টি রয়েছে; যার সমাধান করা একান্ত দরকার সেটি বিপদের মধ্যে পড়ে যাবে। আমরা সবাই চাইবো প্রতিবছর যারা হজ করতে যান তারা যেন এধরণের ক্ষতির মধ্যে না পড়েন। তারা যেন উপযুক্ত নিরাপত্তা এবং সার্বিক সুব্যবস্থা পান।

রেডিও তেহরান: সৌদি সরকারের কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, আফ্রিকা ও ইরানের হাজিদের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেকে বলছেন, এ অভিযোগ হাস্যকর এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা। আপনার দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য সৌদি কর্মকর্তাদের এ অভিযোগ?

ফরহাদ মজহার: সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের এ ধরনের অভিযোগের আমি তীব্র নিন্দা করি। সৌদি রাজার ছেলের গাড়িবহর নিয়ে যাওয়া এবং দুর্ঘটনাকবলিত হাজিদের ওপর সৌদি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর লোকদের আচরণ ও অব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই। একইসাথে এই ঘটনার বিষয়ে খুব ঠান্ডা মাথায় খুঁজে বের করা দরকার কেন এত বিপুল সংখ্যক হাজি নিহত হলেন। শুধু মিনার ব্যাপারে নয়; এর আগে ক্রেন ভেঙে হাজি মারা যাওয়ার ঘটনাও খতিয়ে দেখা দরকার। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ব্যবস্থাপনার ক্রটি সম্পর্কে আঙুল তুলে স্পষ্ট করে দেখানো দরকার। আর সেক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষকে আমরা দোষারোপ করতেই পারি। 
  
রেডিও তেহরান: সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শেখ বলেছেন, এ ঘটনায় আল্লাহর হাত রয়েছে; মানুষের কোনো হাত নেই। এ নিয়েও মুসলিম বিশ্বে বিতর্ক উঠেছে। এর জবাবে সৌদি আরবের আরেক প্রখ্যাত আলেম সালমান বিন ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওদা বলেছেন এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি কী বলবেন?

ফরহাদ মজহার: দেখুন সৌদি আরবের মুফতিরা বা কর্মকর্তারা যা বলছেন সেটা আমাদের জন্য ভালো নয়। আমি খুবই মনোযোগের সাথে গোটা বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। খুবই ভালো হতো যদি সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার দায় নিজেরা স্বীকার করে, গোটা মুসলিম বিশ্বের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতেন। যারা হজ করতে দুর্ঘটনায় পড়ে শাহাদাতবরণ করেছেন। ফলে যেসব হাজি নিহত হয়েছেন তাদের কথা এবং আগামী দিনের কথা ভেবে বিষয়টি খুব বিচক্ষণতার সাথে নিতে হবে। তাছাড়া যখন পাশ্চাত্যের দ্বারা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চলছে তখন মুসলমানদের মধ্যে বিভেদটা এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় নয়।

আপনি যদি পলিটিক্যালি আমাকে প্রশ্ন করেন, তখন আমি স্পষ্টভাবে বলব যে আমি রাজতন্ত্রের পক্ষের লোক নই। ইয়েমেনের বিষয়ে সৌদি আরবের রাজনীতির আমি তীব্র সমালোচনা করি। আমি মনে করি যে ইরানের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো করা দরকার। সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকা দরকার। একজন বাংলাদেশি হিসাবে একটি একাত্মতার জায়গা থেকে মনে করি অভিযোগের তর্কটা খুব একটা ফলপ্রসূ কিছু হবে না।

সৌদি আরবের কর্মকর্তা এবং আলেমরা যেসব কথা বলেছেন তার সবকিছুর ওপর আল্লাহর ওপর দোষ চাপানোর বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। দুর্ঘটনা হতেই পারে বা ঘটতেই পারে, কিন্তু এসব নানাকিছু বলে যদি দুর্ঘটনার দায়টা এড়াতে চাই তাহলে তার নিন্দা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। মিনার ঘটনার ব্যাপারে সব পক্ষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; বিভক্ত করা নয়।

রেডিও তেহরান: সৌদি রাজার ছেলে মুহাম্মাদ বিন সালমান কয়েকশ লোকের গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার কারণ মিনায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে খবর বেরিয়েছে। এছাড়া, আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অনেকে। আবার হাজিদের লাশ যেভাবে স্তুপ করে রাখা হয় তা নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে মুসলিম বিশ্বে। সামগ্রিকভাবে আপনি এ বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছেন?

ফরহাদ মজহার: এই বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা যদি শুধুমাত্র অভিযুক্ত করতে চাই তাহলে তার ফল খুব একটা ভালো হবে বলে আমি মনে করিনা। বিপুল সংখ্যক হাজির মৃত্যুর ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তার দিক, আন্তর্জাতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে, ইয়েমেনের সঙ্গে যুদ্ধ, সিরিয়ার ঘটনা এবং ইরানের সাথে যে ঘোরতর পার্থক্য এভাবে সবদিক থেকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপ আসা দরকার বলে আমি মনে করি।

সৌদি আরবের বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভূমিকা আরো অনেক গভীর ইতিহাসের বিষয়। বর্তমানে শিয়া-সুন্নির বিভেদের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের মিমাংশা করার দরকার ছিল। ইরানের সাথে সম্পর্ক ভালো করার দরকার ছিল। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ। রাজনৈতিকসহ নানাক্ষেত্রে সৌদি আরবের সমালোচনা করা দরকার। অন্যদিকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক গভীর সংকট দেখা যাচ্ছে।

রেডিও তেহরান: বার বার হজের সময় নানা দুর্ঘটনার জন্য এখন প্রশ্ন উঠেছে- হজ, কাবা এবং মদীনা মনোয়ারার সঙ্গে যেহেতু সম্পর্ক বিশ্বের সব মুসলমানের সেজন্য হজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বহুজাতিক কমিটি গঠন করা উচিত। এ দাবি কতটা যৌক্তিক?

ফরহাদ মজহার: দেখুন পৃথিবীর মুসলমানরা মনে করে তারা একটি জাতি। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক রাষ্ট্রের যে ধারণা তার বিরুদ্ধে মুসলিম জাতির কোনো শক্তিশালী অবস্থান নেই। আর রাজতন্ত্র ইসলাম ধর্মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আপনারা লক্ষ্য করুন মক্কায় তো আমেরিকান সৈন্য আছে। তারা তো অলরেডি মক্কা দখল করে নিয়েছে একথা বলা যায়। আমেরিকা সারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ বিষয়গুলো আমরা সবাই জানি। আমাদের একথাগুলো স্পষ্টভাবে বলা দরকার যে ইসলামে তো রাজতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। আমরা চাই যে সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের রূপান্তর ঘটুক।#

কোন মন্তব্য নেই:

Post Top Ad

Responsive Ads Here