"আমি
আত্মঘাতী হামলা চালাতে এসেছি৷ আল্লা আমাদের সকলের মঙ্গল করুন৷" পাঠানকোটে
বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলে আড়ি
পেতে কথাগুলি শুনেছিলেন গোয়েন্দারা৷ অনেকেরই শিরদাঁড়া দিয়ে যেন হিমেল স্রোত
নেমে গেল৷ তাঁরা বুঝতে পারলেন, বেশ বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আক্রমণ শুরু
করেছে জঙ্গিরা৷
সত্তর
সেকেন্ডের ফোন কল৷ যাঁকে করা হয়েছে, তিনি একজন মহিলা৷ পাকিস্তানের
বাসিন্দা৷ ফোন শুনে ওপ্রান্তে দীর্ঘ নীরবতা৷ ফের এপ্রান্ত থেকে পুরুষকন্ঠে
শোনা গেল, "আমি আত্মঘাতী হামলা চালাতে এসেছি৷ আল্লা আমাদের ভাল করবেন৷" রাত
তখন প্রায় সাড়ে বারোটা৷ মা-কে ফোন করে এই খবর শুনিয়েছিল এক আত্মঘাতী
জঙ্গি৷ ফের ফোন গিয়েছিল দুপুর দুটো নাগাদ৷ সেটাই শেষ৷ সেনা অভিযানে শনিবার
বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানো সব জঙ্গিই সন্ধ্যায় নিহত হয়েছে৷ তাই ফোন
যাওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা ছিল না৷ এখনও জঙ্গির করা ফোন কলের বার্তার
মর্মোদ্ধার করার চেষ্টা চলছে৷ পাকিস্তানের অজ্ঞাত জায়গায় ফোনটি সত্যিই তার
মায়ের কাছে করা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও, জানার চেষ্টা চলছে৷
জঙ্গিরা
কথা বলছিল পাঞ্জাবি ও মুলতানি ভাষায়৷ চারবার ফোনের মধ্যে দীর্ঘতম কল ছিল
৮৭ সেকেন্ডের৷ পাক হ্যান্ডলারের প্রশ্ন ছিল, "কণ্ট্রোল মে হ্যায়?" জবাব
শোনা গিয়েছিল, ‘হাঁ৷" এরপরেই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতি চায়
জঙ্গিরা৷ জবাব আসে, "এয়ারফোর্স অ্যাসেটস, চপারস আওর প্লেনস কো উড়া দো৷"
অন্য একটি ফোন কল নিয়ে গোয়েন্দারা এখনও বিভ্রান্ত৷ যেখানে শোনা গিয়েছে,
"উসে সমঝাও৷ হামে ফিক্র হ্যায়৷" মাঝরাতের সামান্য পর প্রথম ফোনে পালা করে
কথা বলেছিল তিন জঙ্গি৷ পরের ফোনে দু'জনের সঙ্গে কথা হয় হ্যান্ডলারের৷ ৩২
সেকেন্ডের কলে তাদের নির্দিষ্ট কয়েকটা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন