ভারত থেকেও টাকা পাচ্ছে আই এস ? - rangpur news

Breaking

Breaking News

rangpur news

This is news blog site.Here have important online newspaper.if you Concert:MD.Gulam azam sarkar. E-mail:gulamazam@gmail.com Mobil:01735632338

Windows

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৫

ভারত থেকেও টাকা পাচ্ছে আই এস ?

ভারত থেকেও টাকা পাচ্ছে আই এস ?-aajkaal.in

isis 1410সব্যসাচী সরকার:জঙ্গি দমনে টাকার উৎসে নজর এবার গোয়েন্দাদের। ব্যক্তি থেকে শুরু করে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে এ দেশে মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকলেই ব্যাঙ্কের নজরদারি কঠোর করার সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি হাওলা চক্রেও। আই এস আই, আই এস যে–কোনও আক্রমণের মোকাবিলায় টাকা লেনদেনের উৎস জানাই জরুরি— এমনই মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে, ব্যক্তি বা সংগঠনের ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত তথ্য দিতে না পারলে, আইনমাফিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ভুয়ো অ্যাকাউন্টেও নজরদারি বাড়বে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আপাতত টাকার উৎসই নাশকতা ঠেকানোর অন্যতম পদক্ষেপ বলে মনে করছে দিল্লি। ভুয়ো অ্যাকাউন্টের ঠিকানা, ব্যক্তির ছবি থাকলেও, সে ব্যক্তির আদৌ এ দেশে অস্তিত্ব আছে কিনা, নিয়মকানুন থাকলেও, শিথিলতার জন্য তার সমীক্ষা করা। সব সময় হয়ে ওঠেনি। দেশে যখনই কোনও বড় নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, তার পরই দেখা গেছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স (ভুয়ো), ভোটার কার্ড ও ঠিকানাতেই লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গি–যোগ
। কার্যত, বহু ক্ষেত্রে কয়েকজন ধরা পড়লেও, শীর্ষ নেতা অধরাই থেকে গেছে। সম্প্রতি খাগড়াগড় কেন্দ্রেও দু–তিনজন শীর্ষ জামাত নেতার কোনও হদিশ এখনও মেলেনি। টাকার পথে আলো ফেললেই, কে বা কারা কেন মোটা অঙ্কের টাকা পাঠাচ্ছে— যিনি পাঠাচ্ছেন, তার আয়ের উৎস কী জানার চেষ্টা কার্যত শুরু করল দিল্লি। গোয়েন্দারা একটি অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, সমস্ত বড় ঘটনার পেছনে স্থানীয় ব্যক্তিদের কয়েকজনকে নিয়োগ করা হয়। সেই ব্যক্তি/ব্যক্তিদের আর্থিক দিক দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া থাকে অন্য এক ব্যক্তির ওপর। দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলিই এখন গোয়েন্দাদের নজরে। বস্তুত, পরিস্থিতি এমন, কালো টাকা বাইরে থেকে আনার চেয়ে জরুরি, দেশে ব্যক্তি বা সংগঠনের কে বা কারা বিদেশের টাকা ঘরে তুলছেন। বছর দেড়েক আগে তিরুবনন্তপুরম শহর থেকে মুজাহিদিন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দোহা থেকে নিয়মিত তাদের কাছে টাকা আসত এজেন্সির মাধ্যমে। এ ছাড়া, হাওলার টাকাও। ‘মানি ট্রেইল’ শুধু কালোবাজারি, চিটফান্ডের ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া অধিকারের নয়, ওই পথেই জঙ্গি–যোগাযোগের পাকাপাকি করিডর— তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আই এসের থাবা থেকে বাঁচতে গেলে জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে যারা কাজ করে, তাদের সূত্রে সন্ধান জরুরি। সোশ‍্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নজরদারি রাখবে। মুম্বইয়ে তাজ হোটেলে আত্মঘাতী জঙ্গি গোষ্ঠী ফিদায়েঁ হানার পর, মুম্বই পুলিসের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড তল্লাশিতে নেমে দেখেছিল কাসবের দলবল দীর্ঘদিন যাবৎ এ দেশে থেকেই, স্রেফ টাকার জোরে সংগঠনের নির্দেশে হননের পরিকল্পনা করে গেছে। এ পর্যন্ত ভারতের বুকে দশটি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, যা অন্যান্য ঘটনার চেয়ে সবদিক থেকেই ভয়াবহ। ১৯৯৩ সালের মার্চে মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, ২০০২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গুজরাটে অক্ষরধাম মন্দিরে আক্রমণ, ২০০৫, ২৯ অক্টোবর দিল্লিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, ২০০৬, ১১ জুলাই মুম্বই ট্রেনে বিস্ফোরণ, ২০০৮, ১৩ মে জয়পুরে বিস্ফোরণ, ২০০৮, ৭ অক্টোবর আসামে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, ২০০১, ১৩ ডিসেম্বর সংসদে জঙ্গি হানা। এর আগে ১৯৯৮, ৯ ফেব্রুয়ারি কোয়েম্বাটোরে বিস্ফোরণ এবং ২০০১, ১০ অক্টোবর জম্মু–কাশ্মীরে বিধানসভায় জঙ্গি হানা। সমস্ত ঘটনার পেছনেই দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির কথাই জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। তিরুবনন্তপুরম, মুম্বই, দিল্লি, জয়পুর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, গুয়াহাটি বিস্ফোরণ, জঙ্গি আক্রমণে এক বন্ধনীতে। প্রতি ক্ষেত্রেই জঙ্গিদের আশ্রয়দাতার সংবাদ উঠে এলেও, শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে আশ্রয়দাতার ভাবনার অতীত ব্যক্তিটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। একই নামে বহু ব্যক্তির উপস্থিতি জঙ্গিদের একটি পরিচিত কৌশল, তেমনি অজস্র নামের ব্যবহারও। সমস্ত ক্ষেত্রেই কৌশল বদলেছে, হানাদারির পর তা নজরে এসেছে গোয়েন্দাদের। বিভিন্ন পেশার, বিশেষত প্রযুক্তি জগতের তরুণ–তরুণীকে টাকার টোপ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জঙ্গি ছকও প্রকাশ্যে। দেখা গেছে, হায়দরাবাদে মক্কা মসজিদে বিস্ফোরণের জন্য যে ব্যক্তি দুধের ক্যান নিয়ে পাশের লোকটির হাতে দিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তার খোঁজ এখনও মেলেনি। গুয়াহাটি গণেশগুড়ি সেতুর নিচে অটোর যাত্রী সেজে যে ব্যক্তি পি এইচ–থ্রি বিস্ফোরকের ডিবে বসিয়ে রেখে এসেছিল,  খোঁজ মেলেনি তারও। একই ঘটনা মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারে বিস্ফোরণের দিনেও। কে সাইকেল রেখে চলে গেল, ক্লোজড সার্কিটে তার মুখের ছবি ধরাই পড়ল না। নজরদারি কীভাবে, কতদূর সম্ভব— এই প্রশ্ন যেমন কোটি টাকার, তেমনই নানা ছদ্মবেশে, ভুয়ো কাগজপত্রের ও মোটা টাকার ব্যবহার করে এলাকায় বসবাসকারীকে ধরার পদ্ধতিও কঠিন। সব ক্ষেত্রেই টাকা মুখ্য ভূমিকায়। খাগড়াগড়ে বাড়িওলার চাহিদার থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে জাঁকিয়ে বসেছিল জামাতের দলবল। সেখানেও কেউ প্রশ্ন করেনি, এত টাকা বেশি ভাড়াই বা আসে কোথা থেকে। টাকার পথে এবার নজরদারি না করলে জঙ্গির বিস্ফোরক যে অনিবার্য, তা বিলক্ষণ বুঝেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা।

কোন মন্তব্য নেই:

Post Top Ad

Responsive Ads Here