সাক্ষাৎকার
ভারতে অসহিষ্ণুতা একটা অর্থনীতির প্রশ্নও বটে -dw
নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হবার পর থেকে ভরতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক
অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলেছে৷ লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের শকুন্তলা বানাজি
ব্যাপারটাকে দেখেন অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে৷
ডিডাব্লিউ: ভারত কি সত্যিই আরো অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে, নাকি পুরোটাই একটা মিডিয়া হাইপ?
শকুন্তলা বানাজি: এটা সত্যি যে, দঙ্গল বেঁধে মারা, অনলাইন ও অফলাইন প্রতিহিংসা, অসহিষ্ণু, আগ্রাসী আচরণের প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ইত্যাদির ঘটনা গত এক বছরে খুব বেড়েছে৷
ভারতে অসহিষ্ণুতা সম্পর্কে দেশি ও বিদেশি মিডিয়ায় কী ধরনের বিবরণ দেওয়া হচ্ছে?
ভারতীয় অথবা ইংরেজি ভাষায় ভারতের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে৷ অনেক মিডিয়া আউটলেট অসহিষ্ণু আচার-আচরণে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, বিশেষ করে সেই সব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যারা ‘‘এনকাউন্টার কিলিং'', নির্মমতা, দাঙ্গা ও দুর্নীতির প্ররোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে অথবা কে দিয়েছে, এই সব নিয়ে অনুসন্ধান করছেন৷ এই সব ইস্যুকে ‘হাইপ' না দিয়ে, সে বিষয়ে আলোচনাকে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে ‘‘বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তির'' দোহাই দিয়ে৷ যে সব সাংবাদিক সমালোচনা করেন অথবা নিজেদের সততা বজায় রাখেন, তাদের ছাঁটাই করা হয়, অথবা মালিক ও সম্পাদকরা তাদের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন৷
ভারতে অনৈক্য কি একটি সামাজিক সমস্যা, নাকি তার অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণও আছে?
ভারত জুড়ে যে সব সংঘাত ও নিপীড়ন চলেছে, তার কারণ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক৷ গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের জন্য বুনিয়াদি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারা; আরো ৩০ কোটি মানুষকে এমন চরম দারিদ্র্য ও অধিকারহীনতায় রেখে দেওয়া যে, অনন্ত শ্রম, এমনকি শিশুশ্রম দিয়েও দু'বেলা পেট ভরানো সম্ভব হয় না – এটা শুধু কোনো একক সরকারের ব্যর্থতা নয়, এটা বিগত কয়েক দশক ধরে একের পর এক সরকারের ব্যর্থতা – সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার দায়িত্ব, যারা অর্থনৈতিক কাঠামো বদলের শর্ত দিয়ে এসেছে, বেসরকারি মালিকানা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এসেছে৷
শকুন্তলা বানাজি: এটা সত্যি যে, দঙ্গল বেঁধে মারা, অনলাইন ও অফলাইন প্রতিহিংসা, অসহিষ্ণু, আগ্রাসী আচরণের প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ইত্যাদির ঘটনা গত এক বছরে খুব বেড়েছে৷
ভারতে অসহিষ্ণুতা সম্পর্কে দেশি ও বিদেশি মিডিয়ায় কী ধরনের বিবরণ দেওয়া হচ্ছে?
ভারতীয় অথবা ইংরেজি ভাষায় ভারতের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে৷ অনেক মিডিয়া আউটলেট অসহিষ্ণু আচার-আচরণে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, বিশেষ করে সেই সব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যারা ‘‘এনকাউন্টার কিলিং'', নির্মমতা, দাঙ্গা ও দুর্নীতির প্ররোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে অথবা কে দিয়েছে, এই সব নিয়ে অনুসন্ধান করছেন৷ এই সব ইস্যুকে ‘হাইপ' না দিয়ে, সে বিষয়ে আলোচনাকে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে ‘‘বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তির'' দোহাই দিয়ে৷ যে সব সাংবাদিক সমালোচনা করেন অথবা নিজেদের সততা বজায় রাখেন, তাদের ছাঁটাই করা হয়, অথবা মালিক ও সম্পাদকরা তাদের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন৷
ভারতে অনৈক্য কি একটি সামাজিক সমস্যা, নাকি তার অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণও আছে?
ভারত জুড়ে যে সব সংঘাত ও নিপীড়ন চলেছে, তার কারণ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক৷ গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের জন্য বুনিয়াদি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারা; আরো ৩০ কোটি মানুষকে এমন চরম দারিদ্র্য ও অধিকারহীনতায় রেখে দেওয়া যে, অনন্ত শ্রম, এমনকি শিশুশ্রম দিয়েও দু'বেলা পেট ভরানো সম্ভব হয় না – এটা শুধু কোনো একক সরকারের ব্যর্থতা নয়, এটা বিগত কয়েক দশক ধরে একের পর এক সরকারের ব্যর্থতা – সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার দায়িত্ব, যারা অর্থনৈতিক কাঠামো বদলের শর্ত দিয়ে এসেছে, বেসরকারি মালিকানা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এসেছে৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন