গরুর গোশত খেলেও আরএসএস-এর সদস্য হওয়া যাবে: মনমোহন বৈদ্য
(রেডিও তেহরান): গরুর
গোশত খেলেও আরএসএস-এর সদস্য হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনের নেতা
মনমোহন বৈদ্য। করেছেন আরএসএস নেতা মনমোহন বৈদ্য। আরএসএস-এর সর্বভারতীয়
প্রচারক প্রধান মনমোহন বৈদ্য সাংগঠনিক কাজে অরুণাচল প্রদেশ সফর করার সময়
গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এ মন্তব্য করেন।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’ তথ্য সুত্রে প্রকাশ, আরএসএস-এর প্রায় ৩ হাজার সদস্য গরুর গোশত খেয়ে থাকেন।
এক
সাংবাদিক সম্মেলনে আরএসএস নেতা মনমোহন বৈদ্য দাবি করেন, ‘মানুষের
খাদ্যভ্যাসে আরএসএস কখনোই হস্তক্ষেপ করে না।’ যদিও তিনি এটাও জানান, ‘গরুর
গোশত খাওয়া এ দেশের বৃহত্তর অংশের খাদ্য তালিকার মধ্যে পড়ে না।’
তিনি
অবশ্য বলেন, ‘অরুণাচল প্রদেশে গরুর গোশত খাওয়াটা সে রাজ্যের মানুষের
খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে পড়ে।’ প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী অরুণাচল
প্রদেশে ৩০ শতাংশের বেশি খৃস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। মনমোহন
বৈদ্যর দাবি, ‘গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আরএসএসের কোনো ভূমিকা নেই। তার
সংগঠন শুধুমাত্র দেশ বিরোধী কাজকর্মের বিরোধিতা করে।’
প্রসঙ্গত,
কিছুদিন ধরে গরুর গোশত নিয়ে দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সড়ক
থেকে সংসদ পর্যন্ত তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি দলের
কোনো কোনো নেতা গরুর গোশত খেতে হলে পাকিস্তানে যেতে হবে বলে মন্তব্য
করেছেন। কেউ বলেছেন, ভারতে থাকতে হলে গরুর গোশত খাওয়া ছাড়তে হবে। আবার কেউ
বলেছেন, গো-মাতাকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতে পারি আবার জীবন
নিতেও পারি। দেশজুড়ে গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও করছেন
হিন্দুত্ববাদী অনেক নেতা।
গরুর
গোশত খাওয়া এবং তা বাসায় রাখার মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে কিছুদিন আগে উত্তর
প্রদেশের দাদরির বাসিন্দা মুহাম্মদ আখলাক নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংস ভাবে
পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কেনো কোনো জায়গায় গরু জবাই করা হয়েছে বলে মিথ্যা
গুজব রটিয়ে অথবা গরুর গোশত ফেলে রেখে উত্তেজনার সৃষ্টি করা হয়েছে।
এমতাবস্থায় গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে আরএসএস নেতা মনমোহন বৈদ্যর বিবৃতিতে
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।#
রেডিও তেহরান/এমএএইচ/জিএআর/১৩

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন