১৫ ঘন্টা লড়াই শেষে জঙ্গিমুক্ত পাঠানকোট - rangpur news

Breaking

Breaking News

rangpur news

This is news blog site.Here have important online newspaper.if you Concert:MD.Gulam azam sarkar. E-mail:gulamazam@gmail.com Mobil:01735632338

Windows

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

১৫ ঘন্টা লড়াই শেষে জঙ্গিমুক্ত পাঠানকোট


কুয়াশা মোড়া চারপাশ৷ অন্ধকারে আশপাশের কিছুই প্রায় দেখা যাচ্ছিল না৷ ঠান্ডায় জবুথবু গোটা পাঞ্জাব৷
ঘড়িতে ভোর ৩.২০৷
পাঞ্জাবের পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটি৷ সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থল৷ হঠাত্‍ কেঁপে উঠল বিস্ফোরণে৷ কিছু বোঝার আগেই চারপাশ থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি৷ এখানেই মজুত রয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২৯৷ জঙ্গি হামলার পরই পাঠানকোট-সহ গোটা পাঞ্জাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে৷
শনিবার ভোর রাতে পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ভয়ঙ্কর আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ভিত নাড়িয়ে দিল ভারত-পাক সাম্প্রতিক আলোচনার বাতাবরণকে৷ সেনা সূত্রে খবর, মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জঙ্গির৷ শহিদ হয়েছেন তিন সেনাকর্মী৷
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গোয়া সফর কাটছাঁট করে দিল্লি ফিরে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর৷ জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা সবসময় সুসম্পর্ক রাখতে পছন্দ করি৷ কিন্তু কোনওভাবেই দেশের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না৷ আজ পাঞ্জাবে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই নিন্দনীয়৷ পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি৷ নিহত সেনার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি৷" দুপুরে দিল্লিতে ফের বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জরুরি বৈঠক৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ‘অ্যাটাক চপার'৷ সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, দিন দুয়েক আগে গুরুদাসপুরে এক পুলিশ সুপারের গাড়ি অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল৷ অপহৃত হন পুলিশ সুপারও৷ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল পাঞ্জাব, কাশ্মীরে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে৷ গত বছরের বড় দিন, ইংরেজির নববর্ষ, সাধারণতন্ত্র দিবসে জঙ্গি হামলার আগাম সতর্কতা ছিলই৷ সেই মতো দেশের বিভিন্ন্ শহরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল৷

পিটিআই সূত্রে খবর, মূলত সেনাবাহিনীর বিমান অপহরণ করার উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের৷ পাশাপাশি মিগ-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানে বিস্ফোরণ ঘটানো ছিল তাদের লক্ষ্য৷ জঙ্গিরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে কুয়াশার অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর নজর এড়িয়ে ঢুকে পড়ে৷ দু'টি দলে ছিল দু'জন, অপর দলে ছিল তিনজন৷ প্রথমে তারা বিস্ফোরণ ঘটায়৷ তারপর এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে৷ পাল্টা জবাব দেয় সেনাবাহিনী৷ খবর যায় সেনার সদর দফতরে৷ পাঠানো হয় অতিরিক্ত সেনাবাহিনী৷ দিনের আলো ফুটতেই অপারেশনে নামানো হয় সেনা কপ্টার৷ সকাল ৯টা নাগাদ প্রথম বার গুলির লড়াই থামে৷ তারপর ফের ১০.৫০ থেকে শুরু হয় জঙ্গি-সেনা লড়াই৷ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিক্কর জানিয়েছেন, তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে৷ জরুরি বৈঠকে উপস্হিত থাকবেন সেনাবাহিনীর তিন প্রধানও৷ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এদিনের জঙ্গি হামলায় একটি সেনা বিমানেও কোনও ক্ষতি হয়নি৷ সেনাবাহিনীর পোশাকে জঙ্গিরা ঘাঁটিতে ঢুকেছিল৷ পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এই পাঠানকোট বিমানঘাঁটি৷  হামলার আগে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে ফোন করে জঙ্গিরা৷ বিশেষ করে রাত ১২ টা থেকে ১.৪০ পর্যন্ত চারবার পাকিস্তানের একটি নম্বরে  জঙ্গিরা ফোন করেছিল৷ হামলার পরেই গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন সেনার বিশেষ বাহিনী এবং এনএসজি কমান্ডোরা৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় জম্মু-কাশ্মীর জাতীয় সড়ক৷
যদিও হামলার দায় কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি৷ কিন্তু ধরন দেখে এই হামলার পিছনে জইশ-ই-মহম্মদের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ হামলার পরেই দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ পাঠানকোটে বিমানঘাঁটি   প্রহরায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীর বিশেষ ‘অ্যাটাক' চপার ও কপ্টারকে৷ গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ৩১ ডিসেম্বর রাতে সীমান্ত টপকে আট-দশজনের একটি জঙ্গি দল ভারতে ঢোকে৷ হামলার মাস্টার মাইন্ড আজহার মেহমুদ বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ৷ উল্লেখ্য কান্দাহার বিমান অপহরণের ঘটনায় মূল কান্ডারি ছিল এই মেহমুদ৷ পাশাপাশি পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন যৌথভাবে এই হামলায় জড়িত বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে৷ গুরুদাসপুরের পরে পাঠানকোটে এইভাবে জঙ্গি হামলা নিঃসন্দেহে ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্কের মাঝে ফাটল তৈরি করল বলে মনে করা হচ্ছে৷
জঙ্গি হামলার পরই সেনাবাহিনীর তরফে বিশেষ ড্রোন অপারেশনের কাজে নামানো হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাকিস্তান সফরের ন'দিনের মধ্যে জঙ্গি হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা৷ বিশেষ করে কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে৷ কংগ্রেসের দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত৷ অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, জঙ্গি হামলার স্পষ্ট জবাব দেবে ভারত৷ বিরোধীরা সরব হয়েছে, দু'দিন আগে অপহরণ করা পুলিশ সুপারের ফোন থেকে পাকিস্তানে দেড় ঘণ্টার মধ্যে চারবার ফোন গেলেও কেন নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনও পদক্ষেপ করেনি৷
এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারত-পাক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার স্তরে বৈঠক হওয়ার কথা৷ তার আগেই এই জঙ্গি হামলা বৈঠক অনিশ্চিত করল বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, এদিনের হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷

কোন মন্তব্য নেই:

Post Top Ad

Responsive Ads Here