মোদির উপর হামলার চূড়ান্ত ছক কষছে লস্কর জঙ্গিরা
-
sangbadpratidin.inডিজিটাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি ৬ ডিসেম্বর
প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি-সহ রাজধানী দিল্লির একাধিক হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতাকে
হত্যার চক্রান্ত করছে লস্কর-ই-তৈবা| আইবি ও দিল্লি পুলিশের বিশেষ টিম এখন
খাস রাজধানীর বুকে সক্রিয় লস্কর-ই-তৈবার দুই ‘ফিদায়েঁ' জঙ্গির খোঁজে চিরুনি
তল্লাশি শুরু করেছে|
পুলিশের
কাছে খবর রয়েছে, মোদির উপর হামলার দু'রকম হামলার ছক কষেছে জঙ্গিরা|
প্যারিস হামলার মতো এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করা, অথবা
তাঁর কোনও জনসভায় আত্মঘাতী
বিস্ফোরণ|
শনিবার
আত্মঘাতী জঙ্গিদের হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাজধানী জুড়ে নতুন করে
জারি হয়ে গিয়েছে লাল সতর্কতা৷ প্রাথমিকভাবে দিল্লির ১৫টি এলাকাকে চিহ্নিত
করে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা৷ মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিক-সহ ‘হাই
প্রোফাইল' ব্যাক্তিদের বাসভবন ঘিরেও তড়িঘড়ি বাড়ানো হছে নজরদারি৷ একইসঙ্গে
সতর্ক করা হয়েছে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলিকেও৷ দিল্লি পুলিশ হেড
কোয়ার্টারের স্পেশাল সেলের দাবি, শুধুমাত্র আত্মঘাতী হামলার ছকই নয়, জনবহুল
জায়গা বা নির্দিষ্ট টার্গেটে গ্রেনেড হামলা চালানোরও ছক কষেছিল ফিদায়েঁরা৷
এখন যত দ্রূত সম্ভব তাদের ছক বানচাল করাই লক্ষ্য|
জঙ্গিদের
ব্লুপ্রিণ্ট অনুযায়ী ‘ভিআইপি'-দের নিশানা করে একাধিক জনবহুল এলাকায় হামলা
চালানোই লস্করের লক্ষ্য৷ শনিবার দিল্লি পুলিশ এই খবর জানানোর পর নতুন করে
নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানীকে৷ শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক
তল্লাশি৷ এদিকে গতকাল সকালেই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি থেকে আইএসআই চর
সন্দেহে মহম্মদ সাবির নামে এক সরকারি স্কুলের শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ৷ এর আগে ধৃত আইএসআই চর কাফায়েতুল্লা খান ও
বিএসএফ ইণ্টেলিজেন্স উইংয়ের হেড কনস্টেবল আবদুল রশিদকে জেরার সূত্রে সন্ধান
মিলেছে সাবিরের৷ এই নিয়ে গত কয়েকদিনে পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দেশের
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা পাঁচ৷ কিন্ত্ত দেশব্যাপী পাক
চরদের এই নেটওয়ার্কের মধ্যে হঠাত্ করে দুই ফিদায়েঁ জঙ্গির খবর রীতিমতো
রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে দিল্লি পুলিশের৷
বস্ত্তত
আত্মঘাতী জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর পেয়েই তলায় তলায় এফআইআর দায়ের করে পয়লা
ডিসেম্বর থেকেই ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল
ব্রাঞ্চ৷ এফআইআর-এ ‘দুজানা' ও ‘উকাশা' নামে দুই জঙ্গির নামও উল্লেখ রয়েছে৷
দিল্লি পুলিশের কাছে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে
ঢুকেছে দুই ফিদায়েঁ৷ আপাতত কাশ্মীরে ঘাঁটি গেড়েই দিল্লির বুকে আত্মঘাতী
হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা৷ এই কাজে রীতিমতো ‘রেজিমেণ্টেড ক্যাডার'
বাহিনীও তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, জায়েদ, খুরশিদ,
নোম্যান-সহ বিভিন্ন ছদ্মনামে কাজ করছে এই ক্যাডাররা৷ আর এই তথ্যেই নড়েচড়ে
বসেছে দিল্লি পুলিশ৷ কারণ, গত কয়েকদিন আগে কাফায়েতুল্লা ও রশিদকে জেরা করতে
গিয়েও ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানাতে পারে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর জন্যও
সুনির্দিষ্ট ‘কনফিডেনশিয়াল কোড ল্যাঙ্গুয়েজ' তৈরি করে দিয়েছিল পাকিস্তান
ইণ্টেলিজেন্স অপরিটিভ৷ এফআইআর-এ উল্লেখিত ‘দুজানা' ও ‘উকাশা' নাম দু'টিও
কোড নাম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ স্বাভাবিকভাবেই ক্যাডারদের ছদ্মনামের
সঙ্গে কাফায়েতুল্লাদের কোডের পরিভাষার যোগসূত্র কী তা নির্ধারণ করতেই
উঠেপড়ে লেগেছে দিল্লি পুলিশ৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন