উষ্ণতা বাড়ছে এভারেস্ট শৃঙ্গের
ডিজিটাল ডেস্ক
-sangbadpratidin.in
মাউণ্ট
এভারেস্ট, বা তিববতি ভাষায় মাউণ্ট কোমোলাঙ্গমা৷ বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ৷
পর্বত আরোহীরা সবাই কোনও না কোনও দিন যাকে জয় করার স্বপ্ন দেখেন৷ কেউ কেউ
জয় করেছেন অজস্র বাধা পেরিয়ে৷ যে শিখর সবার উপরে, সেই গর্বের এভারেস্টও আজ
বিপন্ন৷ স্বভাবতই উষ্ণয়নের হাত থেকে রক্ষা পায়নি এটিও৷
গত
পঞ্চাশ বছরে এভারেস্টের তাপমাত্রা তো বেড়েইছে, একে ঘিরে থাকা হিমবাহগুলিরও
আকার কমে গিয়েছে বেশ খানিকটা৷ হুনান প্রদেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন৷
৮,৮৪৮
মিটার উচ্চতা সম্পন্ন এই শৃঙ্গের আয়তনও সঙ্কুচিত হয়েছে৷ যার ফলে হিমবাহ
গলছে৷ মাউণ্ট কোমোলাঙ্গমা তুষার চিতা সংরক্ষণ কেন্দ্রও তাদের রিপোর্টে
জানিয়েছে একই কথা৷
তবে আশার কথা হল, এই এলাকায় পরিবেশ ইদানীংকালে আগের তুলনায় দূষণমুক্ত৷ বেড়েছে অরণ্যের আয়তন৷ ফলে জীববৈচিত্র্য বেড়েছে৷
তিব্বতের
মালভূমি নিয়ে গবেষণারত সংস্হার মতে, তিববতের মালভূমি হল গোটা বিশ্বের ছাদ৷
দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের তিববতের স্বশাসিত এলাকায় অবস্হিত এই মালভূমি৷ যেখানে
সারা বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন ও দূষণ মূল সমস্যা৷ মুশকিলে পড়েছে কোমোলাঙ্গমা-সহ
গোটা মালভূমিও৷ হিমবাহের প্রকৃতি বদলাচ্ছে, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ৷
বিজ্ঞানীদের মতে, এই সবকিছুর মূল কারণ যত্রতত্র মানুষের অবাধ গতিবিধি৷
নয়ের দশকথেকেই যে হারে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে, ফল ভুগতে হচেছ কোমোলাঙ্গমা সংলগ্ন হিমবাহগুলিকে৷
হিমালয়
পর্বত ও দক্ষিণ-পশ্চিম তিব্বতের দিকে হিমবাহ গলেছে সবথেকে বেশি৷ তবে
কারাকোরাম ও পশ্চিম কুংলুংয়ে হিমবাহ গলনের পরিমাণ একটু হলেও কম৷ কারণ
বেড়েছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ৷
আশা
দেখাচ্ছে তিব্বতের মালভূমি এলাকার জলাশয়গুলির আয়তন ও সংখ্যা বৃদ্ধি৷ প্রায়
আশি ভাগ জলাশয়ের আয়তন বেড়েছে৷ ১৯৭০ সালে জলাশয়ের সংখ্যা ছিল ১,০৮১৷ ২০১০
সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২৩৬৷ ১৯৯৮ সাল থেকে বেড়েছে অরণ্যের আয়তন৷ ১৯৯৭
সালে অরণ্যের আয়তন ছিল ৭২ লক্ষ, ৯০হাজার হেক্টর, ২০১৩ সালে তা এসে
দাঁড়িয়েছে ১,৪৭,২০ হাজার কোটি হেক্টরে৷ বনদফতরের সম্পূর্ণ সহযোগিতায় এটি
সম্ভব বলে সূত্রের খবর৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন