বিশ্ব
বিশ্ব এইডস দিবস ও কনডম প্রশ্নে বিব্রত পোপ -dw
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লিউএইচও-র নতুন এক প্রতিবেদন বলছে,
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (এআরটি) প্রয়োগ বাড়ানোর কারণে এইডস
সংক্রান্ত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে৷
এইডস মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ছিল ২০০৪ সালে৷ তখন থেকে মৃত্যুর সংখ্যা
প্রায় ৪২ শতাংশ কমে এসেছে জানিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থা৷ এছাড়া গত ১৫ বছরে
প্রায় ৭৮ লাখ প্রাণ বাঁচানো গেছে৷ এই সময়ে নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার
সংখ্যাও প্রায় ৩৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও৷
সংস্থাটির হিসাবে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মানুষের দেহে এইচআইভি
ভাইরাস রয়েছে৷ গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় বিশ্ব নেতারা
২০৩০ সালের মধ্যে
বিশ্ব থেকে এইডস মহামারি দূর করার আহ্বান লক্ষ্য স্থির
করেন৷
এইডস প্রতিরোধে যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা৷
কিন্তু ক্যাথলিক চার্চ কনডম ব্যবহারের বিরুদ্ধে৷ আফ্রিকা সফর শেষে ইটালিতে
ফেরার সময় বিমানে পোপকে বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে
কথা বলতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেন৷ এইডস প্রতিরোধে কনডম ব্যবহারে গির্জার
পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হবে কি না সেই প্রশ্নটি ‘জটিল' বলে মন্তব্য করেন
পোপ৷ সঙ্গ তিনি এ-ও মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বে আরও বড় সমস্যা রয়েছে৷ তবে
অনিচ্ছা সত্ত্বেও পোপ এইচআইভি ভাইরাস প্রতিরোধে কনডমের ব্যবহার ‘অনেক
পদ্ধতির মধ্যে একটি' বলে স্বীকার করেন৷
এইডস রোগের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীরা অনেক সফলতা দেখালেও এই রোগ পুরোপুরি সারার
উপায় বের করা যায়নি৷ তাই বিজ্ঞানীরা এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন৷ জার্মান
বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে খানিকটা এগিয়েছেন৷
জাতিসংঘের আরেক সংস্থা ইউনিসেফ গর্ভবতী মায়েদের এইডস চিকিৎসার উপর জোর দিচ্ছে৷ এ ব্যাপারে তারা মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছে৷
এইডসের বিরুদ্ধে লড়তে এবং মানুষের মনে এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে কাজ
করছেন অনেক তারকা৷ ইউটু ব্যান্ডের তারকা বোনো-র ‘রেড' নামে একটি সংস্থা
রয়েছে যারা এইডস নিয়ে কাজ করে৷ এবারের বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থাটি
একটি কর্মসূচি চালু করেছে৷ কেউ যদি তাঁর রেড সংস্থায় কমপক্ষে ১০ ডলার দান
করে তাহলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জর্জ ক্লুনি, মেরিল স্ট্রিপ সহ অনেক তারকার
সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারে৷
১৯৯১ সালে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রিন্সেস ডায়ানার গ্লভস ছাড়া এইডস আক্রান্ত
এক রোগীর সঙ্গে হ্যান্ডশেকের এই ছবিটি সেসময় বেশ সাড়া জাগিয়েছিল৷
সমাজে এইডস রোগীদের এখনও হেয় করে দেখা হয়৷ দেশ ও মহাদেশভেদে এর মাত্রা
উঠানামা করে৷ ফলে এইডস রোগীদের শারীরিক সমস্যা ছাড়াও সামাজিক সমস্যার
বিরুদ্ধেও লড়তে হয়৷ জার্মানির এক এইডস রোগীর জীবনযাপন দেখলে সেটা কিছুটা
অনুভব করা যায়৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন