অর্ধ শতক ধরে ইসরাইলের অস্ত্র নির্মাণে জার্মানির সহায়তা: একটি পর্যালোচনা-রেডিও তেহরান
(রেডিও তেহরান): দখলদার
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কট্টর মন্ত্রীসভা গঠিত
হওয়ার পর জার্মানিসহ পাশ্চাত্যের সরকারগুলো ইসরাইলকে
অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জার্মানি ইসরাইলের আধিপত্যকামী ও সম্প্রসারণকামী নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দখলদার এ শক্তির কাছে চারটি যুদ্ধজাহাজ বিক্রির পদক্ষেপ নিয়েছে।
অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জার্মানি ইসরাইলের আধিপত্যকামী ও সম্প্রসারণকামী নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দখলদার এ শক্তির কাছে চারটি যুদ্ধজাহাজ বিক্রির পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী বলেছেন, তারা ৪৩
কোটি ইউরো মূল্যের চারটি যুদ্ধ জাহাজ কেনার জন্য জার্মানির একটি কোম্পানির
সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। জানা গেছে, জার্মানির ফেডারেল সরকার ইসরাইলের
জন্য জাহাজ কেনা বাবদ ১১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান দেবে। বার্লিন দাবি
করেছে, কথিত হলোকাস্টের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে তারা ইসরাইলকে ওই
আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ইসরাইলের যুদ্ধ জাহাজ কেনার ক্ষেত্রে
জার্মানি সরকারের সহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিষয় সবার কাছে স্পষ্ট
হয়েছে আর তা হচ্ছে, ইসরাইল ইতিহাস বিকৃত কিংবা মিথ্যা ইতিহাস রচনা করাসহ
বিভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে পণ আদায়ের চেষ্টা করছে। ইসরাইল
সবসময়ই কথিত ইহুদি নিধনযজ্ঞ বা হলোকাস্টের কল্পকাহিনী প্রচার করে সবসময়ই
বিশ্ববাসীর সহমর্মিতা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ প্রচার চালিয়ে
ইসরাইল পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা নিয়ে
ফিলিস্তিনিদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল জার্মানির ওই কোম্পানির
কাছ থেকে এ পর্যন্ত পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রবাহী চারটি সাবমেরিন ক্রয় করেছে।
তবে নতুন চুক্তির আওতায় জার্মানির ওই কোম্পানি আরো চারটি যুদ্ধ জাহাজ
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইসরাইলকে সরবরাহ করবে। চুক্তি অনুযায়ী, জার্মানির
ওই কোম্পানিও ইসরাইলের তৈরি ১৬ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করবে।
জার্মানির আগের সরকারগুলোও ইসরাইলকে
বিভিন্ন ধরণের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে এবার
এঞ্জেলা মার্কেলের সরকার ইসরাইল-জার্মানির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম
বার্ষিকীর অজুহাতে তেলআবিবকে বার্লিনের সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে। আজ ১২ই
মে হচ্ছে ইসরাইল-জার্মান সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী এবং এ উপলক্ষে
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বর্তমানে জার্মানিতে অবস্থান করছেন। যদিও
ফিলিস্তিনিদের প্রতি অপরাধযজ্ঞের কারণে ইসরাইলি কর্মকর্তারা সারা বিশ্বে
ঘৃণিত ও কোণঠাসা হয়ে আছে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার
ক্ষেত্রে জার্মানি অবশ্য অনেক আগে থেকেই ইসরাইলকে সহযোগিতা করে আসছে।
জার্মানি ১৯৬০এর দশকে গোপনে ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে সহায়তা
করে। জার্মানির দৈনিক ডে ওয়াল্ট কিছু দিন আগে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে
লিখেছে, জার্মানির তৎকালীন সরকার পরমাণু বোমা বানানোর জন্য ইসরাইলকে কোটি
কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১৯৬০ সালের ১৪ই
মে ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ানের সঙ্গে জার্মান
চ্যান্সেলরে একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী জর্মানির তৎকালীন
সরকার ইসরাইলের দিমোনা পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প নির্মাণে ১০ বছরের জন্য ৫০
কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল।
ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র নির্মাণে
জার্মানির সহায়তার বিষয়ে এমন সময় খবর প্রকাশিত হলো যখন যুদ্ধবাজ ও অবৈধ
ইসরাইলের প্রতি জার্মানির সমর্থন ও সহযোগিতা আরো বেড়েছে। উদাহরণ স্বরূপ গত
কয়েক বছরে জার্মানি ইসরাইলকে পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম বেশ কিছু ডলফিন
সাবমেরিন সরবরাহ করেছে। #
রেডিও তেহরান/আরএইচ/১২

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন