ছিটমহলবাসীদের সাথে কথাবার্তা শুরু ভারত সরকারের-bbc news
ভারত
ও বাংলাদেশের মধ্যেকার স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হতে
না-হতেই ছিটমহলবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত
সরকার।
ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ আজ কুড়িগ্রাম জেলার
ভেতরে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ার ছড়া পরিদর্শন করেন – এবং এই প্রথম
স্বাধীন বাংলাদেশে কোনও ভারতীয় কর্মকর্তা সেখানে গেলেন। পাশাপাশি
পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে বাংলাদেশী ছিটমহলগুলোতেও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে সফর করতে শুরু করেছেন।
তবে দুদিকের ছিটমহলবাসীরাই বিবিসিকে বলেছেন – যে যেখানে আছেন তাদের প্রায় সবাই সেখানেই থাকবেন, কেউই নিজের ভিটে ছেড়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহী হবেন না।
বাংলাদেশের ভেতর এখন ভারতের যে ১১১টি ছিটমহল আছে তার মধ্যে দাশিয়ার ছড়া-ই আকারে সবচেয়ে বড়, প্রায় বারো হাজার মানুষ থাকেন সেখানে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারকে আজ সেই ছিটমহলবাসীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন – শুধু দাশিয়ার ছড়া নয়, বাংলাদেশের ভেতর কোনও ছিটমহল থেকেই মানুষ ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহী নন।
সীমান্তের অন্য পারে কিন্তু বাংলাদেশের দিকে যেতে ইচ্ছুকের সংখ্যা আগাগোড়াই শূন্য ছিল, বলছিলেন কমিটির ভারতের দিকে আহ্বায়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
তিনি বলছেন, যেহেতু সামাজিকভাবে গত ৬৮ বছরে এই ছিটমহলবাসীদের বন্ধুবান্ধব আত্মীয় পরিজন আশেপাশেই গড়ে উঠেছে, তাই তারা সেই পরিমন্ডল ছেড়ে যেতে চান না। তা ছাড়া ভারতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকাটাও একটা বড় কারণ।
যে ছিটমহলবাসীরা নিজের ভিটে ছেড়ে ভারতে আসবেন, তাদের জন্য পার্লামেন্টে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকার পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বাংলাদেশের ভেতর থাকা ৩৭হাজার ছিটমহলবাসীর কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভারতে আসবেন বলেই সরকারের প্রাথমিক অনুমান।
আসলে পুনর্বাসন প্যাকেজ নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার কোনও মাপকাঠি নয় – ভারতের দিকে ছিটমহলগুলোতে করা তাদের সমীক্ষাতেও একই তথ্য উঠে এসেছিল বলে জানাচ্ছেন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।
২০১৩র জুনে এবং ২০১৪-র সেপ্টেম্বরে করা তাদের দু-দুটো সমীক্ষাতেই ছিটমহলবাসীরা বলেছেন কোনও রাষ্ট্র তাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিক বা না-দিক, তার ওপর তাদের নাগরিকত্ব বেছে নেওয়া নির্ভর করবে না।
ফলে ভৌগোলিকভাবে ছিটমহলবাসীরা এখন যারা যে-দেশ দিয়ে ঘেরা, শেষ পর্যন্ত তারা সে দেশেরই নাগরিক হবেন বলে ইঙ্গিত মিলছে।
একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙরপোতা, কারণ তিনবিঘা করিডরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বা অ্যাক্সেস নিশ্চিত – সেখানকার বাসিন্দারা আর পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন