'সৌদি অপরাধের মদদদাতা আমেরিকার কোনো সম্মান নেই'-রেডিও তেহরান - rangpur news

Breaking

Breaking News

rangpur news

This is news blog site.Here have important online newspaper.if you Concert:MD.Gulam azam sarkar. E-mail:gulamazam@gmail.com Mobil:01735632338

Windows

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫

'সৌদি অপরাধের মদদদাতা আমেরিকার কোনো সম্মান নেই'-রেডিও তেহরান

'সৌদি অপরাধের মদদদাতা আমেরিকার কোনো সম্মান নেই'-রেডিও তেহরান

সম্প্রতি (৬ মে, ২০১৫) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি শিক্ষক-দিবস উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে ইরানের সঙ্গে ৬ জাতির পরমাণু আলোচনা ও ইয়েমেন পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তার ওই বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরব এ অনুষ্ঠানে। আশা করছি
আপনাদের সঙ্গ পাব শেষ পর্যন্ত ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার দেশের ইসলামী বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল শক্তি-সামর্থ্যের কাছে শত্রুদের পরাজয়ের কথা তুলে ধরে বলেছেন, "৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ইরানের রয়েছে বিশ্বের বহু অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নানা ঐতিহ্য বা গৌরব। সাহসী ও দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ এই জাতি তার পরিচিতি ও মর্যাদা রক্ষা করছে। ৮ বছরের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যসহ বিশ্বের সমস্ত শক্তি এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল সরকারগুলোসহ প্রতিক্রিয়াশীল সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ইরানি জাতিকে নতজানু করতে; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। আমাদের এই গৌরব রক্ষা করতে হবে।" 

তিনি ইরানের ওপর পশ্চিমা শক্তিগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেছেন,

'বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা কোনো কোনো শক্তি ইরানের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে ও যে চাপ সৃষ্টি করেছে অন্য কোনো দেশ তাদের এইসব পদক্ষেপের শিকার হলে ধ্বংস হয়ে যেত, কিন্তু এগুলো ইরানকে নাড়াও দিতে পারেনি। এটা ক্ষুদ্র কোনো ব্যাপার নয়। এটা এক বিশাল ব্যাপার। অবশ্য বিশ্বজুড়ে পশ্চিমাদের প্রচারণা সব সময়ই এমন এক ধোঁয়াশা বা অস্পষ্টতার পর্দা তৈরি করে রেখেছে যে এর ফলে অনেকেই বাস্তবতাগুলো দেখতে পায় না। তবে বিশ্বের অনেক মানুষ ও অনেক জাতি, বিশেষ করে যারা আমাদের ঘনিষ্ঠ তারা এইসব বাস্তবতাকে দেখছে এবং বিশ্বের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকর্তা এইসব বাস্তবতাকে দেখতে পাচ্ছে। তারা কি বলছে তাকে গুরুত্ব দেবেন না; এই যে ইউরোপ, পাশ্চাত্য ও মার্কিন সরকারের নানা মুখপাত্র ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা আবোল-তাবোল বা অসংলগ্ন নানা কথা বলছে তারাও তাদের মনের মধ্যে ইরানের মুসলিম জাতির শ্রেষ্ঠত্ব, নানা যোগ্যতা ও শক্তিমত্তাগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং এইসব বিষয় তারা দেখতে পাচ্ছে; কিন্তু তারা মুখে ভিন্ন আচরণ করছে।' 

হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সামরিক হুমকির কথা তুলে ধরে বলেছেন, ইরানি জাতি হুমকির ছায়াতলে কোনো আলোচনা মেনে নেবে না।

ইরানের সঙ্গে চলমান পরমাণু আলোচনার মাঝে মধ্যেই শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়ই হামলার হুমকি দিচ্ছেন। এইসব হুমকির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, "ওরা কেনো হুমকি দিচ্ছ? কেনো মাত্রাতিরিক্ত ভুল করছে বা হঠকারিতা দেখাচ্ছে? ওরা বলছে, যদি এমনটি না হয় বা অমনটি না হয় তাহলে আমরা হয়তো ইরানে হামলা করতে পারি! প্রথমত ওরা হামলা করলে ভুল করবে; দ্বিতীয়ত, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের (ওবামার) আগে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন (বুশ) তিনিও সে সময় হুমকি দিতেন; আর আমি সে সময়ই বলেছি, ' হামলা করে পার পেয়ে যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।' ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমরা বলবে যে, আমরা তোমাদের মারব ও পালিয়ে যাব; না, তোমাদের পা আটকে থাকবে এবং আমরা তোমাদের খুঁজব। ইরানি জাতি তোমাদের ছাড়বে না। যারাই ইরানে হামলা করবে আমরা তাদের অনুসরণ করব জবাব দেয়ার জন্য।" 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে আরও বলেছেন, "পরমাণু আলোচনায় তোমাদের গরজ আমাদের চেয়ে কম নয়। হ্যাঁ, আমরা চাই যে নিষেধাজ্ঞাগুলো উঠে যাক, কিন্তু এসব না ওঠালেও আমরা ভিন্ন পন্থায় আমাদেরকে চালাতে পারব; আর এ বিষয়টি প্রমাণিত সত্য। আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো এইসব নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল নয়, তাই এইসব সমস্যার সমাধান আমাদের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে; আমাদের হাতেই রয়েছে এসবের সমাধান- তা নিষেধাজ্ঞা থাকুক বা না থাকুক। অবশ্য নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এইসব সমস্যা দূর করা সহজ হবে, আর নিষেধাজ্ঞা থাকলে সমাধান কিছুটা কঠিন হবে হয়ত। আলোচনার ব্যাপারে এটাই হচ্ছে আমাদের অবস্থা ও নীতি। কিন্তু বর্তমান মার্কিন সরকার প্রকৃত অর্থেই এই আলোচনার মুখাপেক্ষী। ওরা এ আলোচনার মাধ্যমে এটা বলতে চায় যে আমরা ইরানকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনতে পেরেছি এবং অমুক বিষয়টি ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছি। তাই আমাদের প্রতিপক্ষ বাস্তবে আমাদের চেয়েও বেশি মাত্রায় এই আলোচনার মুখাপেক্ষী; আর বেশি না হলেও অন্তত এর প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতা আমাদের চেয়ে কম নয়। " 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, "হুমকির তরবারির নীচে আলোচনা চলবে- আমি এতে রাজি নই। আলোচনা ও সমঝোতা হোক, তাতে সমস্যা নেই-অবশ্য যদি মূল রেড-লাইন বা লাল-সীমানাগুলো মেনে চলা হয়। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই চাপিয়ে দেয়া কিছু না মানেন আমাদের আলোচকরা। তারা যেন অবমাননা ও হুমকিও মেনে না নেন।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিশ্বে মার্কিন সরকারের সম্মান বিলুপ্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে বলেছেন, সৌদি সরকার ইয়েমেনে যা করছে কোনো ভাষা বা যুক্তিতেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ভিন্ন দেশে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে এ কারণে যে কেনো সে দেশের জনগণ অমুক ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করছে না?! আর এই অজুহাতে দেশটির নারী ও শিশুসহ বেসামরিক জনগণকে হত্যা করা হচ্ছে এবং দেশটির সর্বত্র আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে- এর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। অথচ মার্কিন সরকার এইসব অযৌক্তিক আচরণ ও অপরাধেই মদদ দিচ্ছে। এরচেয়ে বেশি অসম্মান বা অবমাননা আর কী হতে পারে? জাতিগুলোর কাছে মার্কিন সরকারের কোনো সম্মানই নেই। আর এটা সবাইই দেখছেন।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন,  "মার্কিন সরকার প্রকাশ্যেই বনি-সউদ বা সৌদ বংশকে রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করছে এবং বিন্দুমাত্র লজ্জাও অনুভব করছে না! আর আমাদের বলছে, তোমরা কেনো ইয়েমেনকে সহায়তা করছ? ইরান তো ইয়েমেনকে ওষুধ সাহায্য দিতে চেয়েছে আহতদের চিকিৎসার জন্য। আমাদের অস্ত্র ইয়েমেনিদের দরকার নেই। কারণ, ইয়েমেনের সব সেনানিবাস ও সেনা দেশটির বিপ্লবী জনগণের ও বিপ্লবী দল আনসারুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু তোমরা ইয়েমেনি জাতির ওপর ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানীর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছ! আর বলছ যে কেউ যেন এদের সাহায্য না করে! তোমরা এমনকি রেড ক্রিসেন্টকে পর্যন্ত সেবা করার অনুমতি দাওনি! অন্যদিকে মার্কিন সরকার সৌদি সরকারকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে ও অস্ত্র দিচ্ছে এবং রাজনৈতিক উৎসাহসহ নানা সহায়তা দিচ্ছে। এদের (আমেরিকার) কোনো সম্মান নেই।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, ইরানের মুসলিম জাতি যে আদর্শ বেছে নিয়েছে তার পরিণাম হবে শুভ এবং মহান আল্লাহর সহায়তায় তারা সফল হবে এবং শত্রুরা এ জাতির মোকাবেলায় তাদের ব্যর্থতা প্রত্যক্ষ করবে। # 

রেডিও তেহরান/এএইচ

কোন মন্তব্য নেই:

Post Top Ad

Responsive Ads Here