উস্তাদ সত্যিই কি মানুষখেকো নাকি নিরাপরাধ?-BBC NEWS
ভারতের
রানথামবোর জাতীয় উদ্যানে মানুষখেকো একটি বাঘকে পাকড়াও করে এনে খাঁচায়
রাখা নিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনকারীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
উস্তাদ নামে এই বাঘটিকে খাঁচায় আবদ্ধ করার বিরোধীরা বলছেন প্রাণীটিকে কোনও প্রমাণ ছাড়াই অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
অনেকে আবার বলছেন যদি সত্যি উস্তাদ মানুষ মেরেও থাকে, কেন সে মানুষখেকো হয়ে উঠলো তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
গত ৮ই মে বাঘের কবলে পড়ে রামপাল সাইনী নামে রানথামবোরের একজন বনরক্ষীর মৃত্যু হলে সন্দেহ গিয়ে পড়ে উস্তাদের ওপর। কারণ, ঐ বনরক্ষীর মৃত্যু হয়েছিল তারই টেরিটরি অর্থাৎ প্রভাব বলয়ের মধ্যে।
ভয়ডর ছিলনা তার। গাড়ী ভর্তি পর্যটকদের দেখেও পথের মধ্যে বসে থাকতো সে।
কিন্তু বনরক্ষী রামপাল সাইনীর মৃত্যুর পর উস্তাদকে ঘুমপাড়ানি ইনজেকশন দিয়ে ঘায়েল করে ৪০০ কিলোমিটার দুরে একটি চিড়িয়াখানায় এনে রাখা হয়েছে।
যে ছিল মাইলের পর মাইল এলাকার রাজা, এখন সে একটি ফুটবল মাঠেরও কম জায়গায় অন্তরীণ।
কিন্তু তাকে এভাবে আটকে রাখাটা কতটা আইনসিদ্ধ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনকারী।
চন্দ্রমুলেশ্বর সিং নামে একজন ব্যাঘ্র-প্রেমিক, যিনি নিয়মিত রানথামবোরে যান, জয়পুর হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন।
তার যুক্তি, কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উস্তাদ ঐ বনরক্ষীর ওপর হামরা চারিয়েছিল তার কোনও বৈজ্ঞানিক তদন্ত না করেই তাকে অন্তরীন করা আইনের লঙ্ঘন।
তবে ভারতের সবচেয়ে সুপরিচিত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ভাল্মিক থাপার বনবিভাগের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, তার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় উস্তাদের মত এতটা হিংস্র বাঘ তিনি দেখেননি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন