সিঙ্গাপুরে ৮ বাংলাদেশী জঙ্গি আটক
ব্রেকিংনিউজ ডেস্কসিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুরে ৮ বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে, যারা দেশে ফিরে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল।আজ সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এ খবর দেয়। সিঙ্গাপুরের ‘দ্য স্ট্যাট টাইমস’ একথা জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে (আইএসএ) তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের সবারই বয়স ২৬ থেকে ৩৪। এরা নিজেদেরকে ইসলামিক স্ট্যাট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) গোষ্ঠির পরিচয় দিয়েছে। এদের উদ্দেশ্য ছিল ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়াটা কঠিন ছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল দেশে ফিরে এসে সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকারকে উৎখাত করা, ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা এবং ইরাক ও সিরিয়ায় স্বঘোষিত খিলাফতের অধীনে বাংলাদেশকে আনা।
সিঙ্গাপুরে কর্মরত বিদেশী শ্রমিকদের মধ্যে সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত এপ্রিলে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত আটজন হলেন, মিজানুর রহমান (৩১), লিয়াকত আলী মামুন (২৯), ইব্রাহিম সোহাগ (২৭), রুবেল মিয়া (২৬), দৌলত জামান (৩৪), শরিফুল ইসলাম (২৭), হাজী নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০), সোহেল হাওলাদার (২৯)।
গত বছরের শেষ দিকে ২৭ বাংলাদেশী শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল। তারা একটি উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠির স্টাডি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদেরকেও ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে আটক করা হয়। জানুয়ারিতে এদের প্রকাশ্যে আনা হয়। পরে সবাইকেই সিঙ্গাপুর থেকে বের করে দেয়া হয়।
এবার আটককৃতদের দেশে ফিরে এসে নাশকতা করার পরিকল্পনা ছিল বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়। এদের কাছে অস্ত্র এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছিল বলেও সিঙ্গাপুরের কাছে প্রমাণ রয়েছে। আটককৃতরা বাংলাদেশে আক্রমণ করার জন্য অগ্নেয়াস্ত্র কেনার অর্থ জোগাড় করছিল। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থগুলোও জব্দ করা হয়। অর্থের পরিমাণ কত, তা দেশটির মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
আটককৃত সবাই সিঙ্গাপুরের ওয়ার্কপারমিটধারী। চক্রের নেতা মিজানুর রহমানের নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার অনুমতি ছিল। এ বছরের মার্চে তার নেতৃত্বেই সেখানে ইসলামিক স্ট্যাট ইন বাংলাদেশ গঠন হয়। বাকি সাতজনও সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসের সমর্থন করায় এবং বিদেশে সহিংসতা ঘটানোর আশংকায় এদের আটক করা হয়। সিঙ্গাপুরে এরা কোনো নাশকতার চেষ্টা করছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রের নেতা মিজানুর রহমান আই এসের নির্দেশনায় যে কোনো জায়গায় হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, মিজানুর রহমানের কাছ থেকে বাংলাদেশে তাদের টার্গেটের একটি তালিকাও উদ্ধার করা হয়। এ তালিকায় রয়েছে -বাংলাদেশ সরকার, সামরিকবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, সিআইডি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান, সাধারণ এবং সেক্ট্রেটারি লেভেলের সরকারি কর্মকর্তা, সরকারদলীয় নেতা, সাংবাদিক এবং নাস্তিক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন